জানার শেষ নেই, শেখার সীমাও অপরিসীম। আমরা যতই জানি চিরদিন জানতে বাকী থাকে আরও অনেক কিছু। যত কিছু আমরা শিখি না কেন আরও অনন্ত পড়ে থাকে আমাদের শেখার অপেক্ষায়। জানার তুলনায় না-জানার এই ব্যাপকতা অনুধাবন করে অনেকে বলেছেন, জানার কোনো শেষ নাই জানার চেষ্টা বৃথা তাই!
এ কথা ঠিক যে সমস্ত বিশ্বচরাচর আর এর মাঝে বিরাজমান বস্তুলোককে জানা কখনো শেষ হবে না। তবুও জানার ও শেখার যে কোনো প্রচেষ্টা এক ধরনের স্বার্থকতা। যদি পড়তে শিখি তাহলে হাজার জিনিস জানার দুয়ার খুলে যায়। যদি লিখতে শিখি তাহলে নিজের জানা অনেক কিছু অন্যকে জানাতে পারি। কৃষি কাজ শিখে ফসল ফলাতে পারি। পশুপালন শিখে আয়-উপার্জন করতে পারি, প্রোটিনের চাহিদা পুরন করতে পারি অনেকের।
যেহেতু আমাদের জীবন সংক্ষিপ্ত এবং এই অল্প সময়ে একজন মানুষ সব কিছু শিখতে ও জানতে পারেন না। অবশ্য তার দরকারও নেই। নিঃসন্দেহে আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কোনো কোনটা জানা অন্য কিছু জানার চাইতে বেশি প্রয়োজনীয়। এই প্রয়োজন নির্ভর করে আমাদের পরিবেশ, পরিস্থিতি ও অবস্থানের ওপর। হয়ত আমার প্রয়োজন কৃষিকাজ শেখা আর আপনার প্রয়োজন গাড়ি চালানো শেখা। এরকম শত শত কাজ আমাদের শিখতে হয় জীবন ধারন ও যাপন করার জন্য। আমাদের এই শেখা, জানা ও কাজে যত ভিন্নতা থাক না কেন মানুষ হিসাবে আমাদের প্রয়োজন ও দূর্বলতা একই ধরনের।
হয়ত কয়েক ক্লাস স্কুলে গিয়ে কারও কারও পড়তে ভালো লাগে না। কেও হয়ত আনন্দ পান ব্যবসা করে। কেউ করেন শিক্ষকতা। কারও বা আবার মন কাড়ে উদ্ভিদ তৃণলতা আর পশুপাখির সান্নিধ্য। কিন্তু কোনো একজন মানুষ এর সব কিছুতে নিয়োজিত হতে পারেন না। অর্থাৎ, আমাদেরকে শেখার ও জানার বিষয়বস্তু অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হয়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ নিজেই ঠিক করতে পারেন তার জানার বিষয়বস্তু, শেখার ক্ষেত্র। অন্যদিকে, শিশুরা নির্ভরশীল তাদের অভিভাবক, রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর। অভিভাবক, রাষ্ট্র ও সমাজ নির্ধারণ করে শিশুদের শিক্ষণীয় বিষয়, জানার বিষয়বস্তু।
চলবে...

No comments:
Post a Comment